close


(বাংলাদেশ প্রতিদিন)

 প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০ টা আপলোড : ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ২৩:৪২

 

 

সবাই এত অসহিষ্ণু কেন?

 

- বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম

 

 

গতকাল দুপুরে ড. কামাল হোসেনের সঙ্গে দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে দীর্ঘ আলাপ-আলোচনা করে খাবার খেয়ে জীবনে প্রথম কেরানীগঞ্জ নতুন কেন্দ্রীয় কারাগারে গিয়েছিলাম। গিয়েছিলাম হোসেনপুর, দেবিদ্বার, কুমিল্লার বীর মুক্তিযোদ্ধা রাখালচন্দ্র নাহাকে দেখতে। রাখালচন্দ্র নাহার একটি মিথ্যা মামলায় ফাঁসির দণ্ড হয়েছিল। ১/১১-এর সময় তার দণ্ড কার্যকর করতে গেলে মহামান্য রাষ্ট্রপতির কাছে গিয়েছিলাম। সেনাসমর্থিত সরকারের যেখানে যা বলা, করা দরকার সেসব করে নাহার ফাঁসি যাবজ্জীবনে পরিবর্তন করা হয়। দণ্ড মওকুফের পর কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে তাকে দেখতে গিয়েছিলাম। রাখালচন্দ্র গুরুতর অসুস্থ হয়ে কদিন আগে বঙ্গবন্ধু মেডিকেলে চিকিৎসাধীন ছিল। খবরটা জেনে হাসপাতালে দেখতে যেতে কারা কর্তৃপক্ষের অনুমতি চেয়েছিলাম। কিন্তু কদিন আগে তাকে কেন্দ্রীয় কারাগার হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাই স্ত্রী, ছেলেমেয়ে নিয়ে গিয়েছিলাম তাকে দেখতে কেরানীগঞ্জের কারাগারে। কারা কর্তৃপক্ষ অসাধারণ সম্মান ও যত্ন নিয়েছেন এজন্য তাদের অসংখ্য ধন্যবাদ। মানুষের কি জীবন! একজন মুক্তিযোদ্ধা কারাগারেই শেষ হতে চলেছেন। কিন্তু কারও কোনো আকার-বিকার নেই। ’৭৩-এ আলোচনা হয়েছিল, খুব সম্ভবত গেজেটও হয়েছিল, যে কোনো মুক্তিযোদ্ধার একবার যে কোনো সাজা মওকুফ করা হবে। তাই অস্তাচলগামী শ্রীনাহাকে দেখে খুবই অস্বস্তিবোধ করছি। কবে কখন চলে যাবে জানি না, তাই আজ অথবা কাল মহামান্য রাষ্ট্রপতি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ যেখানে যেখানে যা বলা বা করা প্রয়োজন, যথাযথভাবে তা করে তার মুক্তির আবেদন জানাব। যাতে নাহার মৃত্যু অন্ধকার কারাগারে না হয়ে মুক্ত আলোয় হয়।
 


মাঝেমধ্যে পাঠকের প্রশংসা শুনে কিছুটা দুর্বলও হই। যারা ভালো বলেন তারা হয়তো আন্তরিকভাবেই বলেন। কিন্তু পাঠকের সেই ভালোয় আমার আন্তরিক গভীরতা না থাকলে আস্তে আস্তে সেসব ভালো আর একসময় ভালো থাকবে না। শিক্ষকদের ভয়ে ছেলেবেলায় স্কুলে যেতাম না, পালিয়ে ওষুধ বিক্রেতাদের ক্যানভাস শুনতাম। লেখাপড়ায় তেমন মন ছিল না। কলেজে গিয়ে যদিও কিছুটা আকৃষ্ট হয়েছিলাম। কিন্তু সেও খুব একটা বেশি দিন নয়। ছাত্র রাজনীতি এবং মুক্তির দুর্নিবার আকর্ষণে মুক্তিযুদ্ধে গিয়েছিলাম। স্বাধীনতার পরও চেষ্টা করেছি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গেছি চার-পাঁচ দিন। জাহাঙ্গীরনগরেও একই রকম। খাতাপত্রে নাম আছে কিনা জানি না। ওসব ড. নুরুন্নবী ও কবি রফিক আজাদ বলতে পারবেন। কারণ কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাপার তারা দেখতেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে এমন বিব্রত হয়েছি যা বলার মতো নয়। কত স্যার যে ‘স্যার’ বলেছেন, গুটিয়ে গেছি। জীবন স্বাভাবিক গতিতে চললে হয়তো পালের গোদাই থেকে যেতাম। বঙ্গবন্ধুর মৃত্যু আমায় যেমন পিতৃহারা এতিম নিঃসম্বল করেছে, তেমনি প্রবাসে বইয়ের ভিতর প্রবেশের একটা সুযোগ করে দিয়েছে। কিন্তু তার পরও বলব, আমার কোনো বিদ্যা-বুদ্ধি, জ্ঞান-গরিমা নেই। অন্তরাত্মা যখন যা বলে, যা দেখি, রাস্তাঘাটে যা শুনি তাই কলমের ডগায় তুলে ধরার চেষ্টা করি। সেটা করতে বিদ্যা-বুদ্ধির প্রয়োজন পড়ে না, প্রয়োজন পড়ে গভীর আন্তরিকতার। কিন্তু দিনে দিনে যে জটিল ঘূর্ণিপাকে পড়তে চলেছি অন্তরাত্মার ডাক শুনে তা যদি লিখতে না পারি। সত্যকে সত্য বলা সারা জীবনের স্বভাব। যা যেভাবে দেখি তা সেভাবে লিখতে বা বলতে যদি না পারি তাহলে কোথায় যাই? তাই খুবই অস্বস্তিতে আছি।

কদিন আগে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্রিয় বোন জননেত্রী শেখ হাসিনা হজরত শাহজালাল, শাহ পরানের পুণ্যভূমি সিলেট সফরের মধ্য দিয়ে নির্বাচনী কার্যক্রম শুরু করেছেন। তা তিনি করতেই পারেন, কিন্তু সরকারি খরচে নয়। তেমন করলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাতির পিতা, তিনি সারা জীবন সরকারি প্রভাবমুক্ত নির্বাচনের যে আশা করেছেন, তা মাটিচাপা পড়ে। প্রধানমন্ত্রীর সফরের পরপরই বিরোধী দলনেতা বেগম খালেদা জিয়া গিয়েছিলেন। নেতা-কর্মীদের জিজ্ঞাসা করেছিলাম, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর জনসভা কেমন হলো, কত লোক হয়েছিল, ১০-১২ লাখ? এক কর্মী বলেছিল, ‘কী বলেন! মাঠ ভরে নাই। ও মাঠে তো আপনিও মিটিং করেছেন।’ আমি আঁতকে উঠেছিলাম, কী বলো! এরপর, পরপর ১০-১৫ জনকে একই কথা জিজ্ঞাসা করেছি। তাদের কথায় খুব একটা অমিল পাইনি। তবে অনেক গেট সাজানোর কথা শুনেছি। খালেদা জিয়া সম্পর্কে তাদের কথা, ‘হজরত শাহজালালের মাজার থেকে হজরত শাহপরানের মাজার পর্যন্ত রাস্তার দুই পাশে বহু লোক হয়েছিল।’ বলেছিলাম, লোকজনকে কি জোর করে বা ভয়-টয় দেখিয়ে দাঁড় করানো হয়েছিল? উত্তর পেয়েছি, ‘না, তেমন নয়। স্বতঃস্ফূর্তই মনে হয়েছে। তা না হলে হাততালি দেবে কেন, নাচবে কেন?’ এই যদি অবস্থা হয় তাহলে তো অবশ্যই চিন্তা করতে হবে। যাকে তাকে চোর-চোট্টা গালাগাল করলে হবে না।

 

NEXT >