close


(বাংলাদেশ প্রতিদিন)

 প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৩ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০ টা আপলোড : ১২ মার্চ, ২০১৮ ২৩:৪৩

 

 

এসব কথা কি না বললেই নয়?

 

- বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম

 

 

বেগম খালেদা জিয়াকে মহামান্য হাই কোর্ট জামিন মঞ্জুর করায় হাই কোর্টের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। বিচারিক আদালত আইনের দ্বারা পরিচালিত হওয়া উচিত। বেগম খালেদা জিয়ার জামিন মঞ্জুর হাই কোর্টের ভাবমূর্তিকে অনেক উজ্জ্বল করেছে। মানুষ মরণশীল। সকল জীবকে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে এটাই নিয়তির বিধান। জন্মিলে মরিতে হবে, অমর কোথা কে কবে? সেই চিরসত্যের মুখোমুখি হয়েছিলাম ৭ মার্চ প্রত্যুষে। সকাল ৬টা ৫-৬ মিনিট হবে। ফজরের নামাজ শেষে বারান্দায় কেবলই বসেছি। বেগম এসে সামনে বসল। বলতে যাব ছোট চাচা ওয়াদুদ সিদ্দিকীকে আনার কথা। আনা হয়ে থাকলে হাসপাতালে যাব। তখনই বেগম বলল, চাচা নেই। কয়েক মিনিট আগে চলে গেছেন। বছরখানেক আগে আমার বাল্যবন্ধু হায়দার শিকদার চলে গেছে। তার ঢাকায় যাওয়ার কথা ছিল। মেডিকেলে সব ব্যবস্থা করে রেখেছিলাম। হায়দারের মেয়ে লিজা ১৫-২০ মিনিট আগে এসেছিল অনুমতি নিতে। তাই আমার ধর্মবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক আবদুল কদ্দুস ফোনে যখন বলেছিল, হায়দার ভাই চলে গেলেন। আমি মনে করেছিলাম তারা ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়েছে। এ কথা ও কথার মাঝে আবার বলল, স্যার, হায়দার ভাই চলে গেছেন। তখন আর বুঝতে বাকি রইল না যে, হায়দার শিকদার টাঙ্গাইল থেকে ঢাকায় নয়, এ পার থেকে ওপারে না-ফেরার দেশে চলে গেছে। চাচার সংবাদটাও ঠিক তেমনই মনে হয়েছিল। আগের রাতে তার মেয়ে শিল্পী কয়েকবার ফোন করেছিল, ছোটভাই, বাবাকে ঢাকায় আনব। একমাত্র ছেলে রাসেলও একই কথা বলেছিল। আমি প্রস্তুত ছিলাম। আমার বাসার পাশেই হৃদরোগ ইনস্টিটিউট। হৃদরোগ নিয়ে কত অভিযোগ শুনি, যন্ত্রপাতি কেনা, দালালদের দৌরাত্ম্য, কিন্তু হাসপাতালের ডাক্তার-কর্মচারী, কর্মকর্তা-নার্স সবাইকে ভীষণ ভালো লাগে। যতবার গেছি, দেখেছি কত মুমূর্ষু রোগীকে কি যত্নই না তারা করে। নিজের সন্তানও অনেক সময় মুমূর্ষু পিতা-মাতার পাশে অমন করে থাকে না। কিন্তু তার পরও শুনি নানা অনিয়ম। শত-সহস্র অনিয়মের দেশে হৃদরোগ ইনস্টিটিউট কী করে বিশুদ্ধ হবে। এনজিওগ্রাম, রিং পরানো, ওপেন হার্ট কত কিছু। হৃদরোগ ইনস্টিটিউট থেকে জেনেছি, শুনেছি, কিছু কিছু শিখেছি। নাজির আহমেদ রঞ্জু এক বীর মুক্তিযোদ্ধা। ৭১-এ বেশ ছোট ছিল, কিন্তু সাহসী ছিল। দেখতে যেমন রাজপুত্রের মতো, ঠিক তেমনি কোনো অহংকার ছিল না। কত যোদ্ধা বড় হয়ে বিত্তশালী হয়ে রং বদল করেছে। কিন্তু রঞ্জুর পাকা রং। কোনো অদলবদল নেই। মা বেঁচে থাকতে ২৪ ঘণ্টা ওর পরামর্শ নিতাম। এখন আমার স্ত্রীর ডা. রঞ্জুর পরামর্শ ছাড়া চলে না। অন্যদিকে ভিসি কামরুল, ডা. শরীফ, মন্ত্রী আজাদ তার ছোটবেলার খেলার সাথী। এখন তো অধ্যাপক এ বি এম আবদুল্লাহর কথা ছাড়া আমার স্ত্রী নাপা কিংবা প্যারাসিটামলও মুখে তোলে না। চাচার মৃত্যু একটা মারাত্মক নাড়া দিয়েছে। কারণ বাবার দিকের আর কোনো মুরব্বি থাকল না। জানি, জন্মের একটা নিয়ম আছে, বাবার পর ছেলে, ছেলের পর নাতি। কিন্তু যাওয়ার কোনো নিয়ম বা সিরিয়াল নেই। বাবা-মার আগে কত সন্তান চলে যায়, দাদা-দাদির আগে কত নাতি-নাতকুর যায়। কিন্তু আমার চাচা তার বংশের ছোট সন্তান। সবার পরে এসেছেন, সবার পরেই গেলেন।

বাছুর আগলার কথা লিখতে গিয়ে মুক্তিযুদ্ধের সময়ে ফিরে গিয়েছিলাম। বোরদার মোড়ের ডা. নাদেরুজ্জামান খান এমপির বাড়ির ওপর দিয়ে উত্তরে শিবগঞ্জ বাজারের দিকে যাওয়ার কথা ছিল। সেসব অনেক ঘটনা লেখার ইচ্ছা ছিল। এর মধ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আমার প্রিয় বোন জিয়াউর রহমান বীরউত্তমকে নিয়ে অবাক করা এক তথ্য দিয়েছেন যা দেশকে ভীষণ নাড়া দিয়েছে। অন্যদিকে আমার ছোট চাচা আলহাজ আবদুল ওয়াদুদ সিদ্দিকী ৭ মার্চ সকাল ৫টার দিকে না-ফেরার দেশে চলে গেছেন। তিনি ছিলেন বাবার বংশের শেষ মুরব্বি। বড় ভাই লতিফ সিদ্দিকীর দু-তিন বছরের বড় ছিলেন তিনি। তাকে নিয়ে না লিখলেই নয়। তাই আন্তরিকভাবে চেষ্টা করব পরে বাবাকে নিয়ে ভারত সীমান্তে যাওয়ার কথা। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা সরকার এবং দলের শেষ কথা। তিনি কিছু বললে তা আর নড়াচড়া করার উপায় থাকে না। অতিসম্প্রতি তিনি বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধের শুরুতে জিয়াউর রহমানও আন্দোলনরত জনতার ওপর গুলি চালিয়েছেন। তার চারপাশে এখন যারা আছেন তারা কেন যে ওভাবে অসত্য তথ্য দিয়ে তাকে ছোট বা বিব্রত করার চেষ্টা করে বুঝতে পারি না। আমি আমার সমস্ত অন্তর, আত্মা অস্তিত্ব নিয়ে বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক সন্তান। সৌভাগ্য আর দুর্ভাগ্য যা কিছুই হোক গভীরভাবে মুক্তিযুদ্ধ করেছি। বহু সাধারণ যোদ্ধার মতো শুধু লেফট-রাইট করিনি, ৩০৩ রাইফেল নিয়ে কারও পিছে পিছে ঘোরাফেরা করিনি। বরং আমার পেছনে শত শত হাজার হাজার যোদ্ধা, লাখো মানুষ ঘোরাফেরা করেছে। সেজন্য মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কোনো বানানো তথ্য শুনলে ভালো লাগে না। জিয়াউর রহমান সম্পর্কে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্য যদি আন্তরিক ও বিশ্বাসপ্রসূত হয় তাহলে বলার কিছু নেই। আর যদি ওভাবে উসকে দিয়ে মজা দেখা হয় তাহলে তো সাবধান হতেই হয়। আমার অসুবিধা, আমি যেমন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অবহেলা মেনে নিতে পারি না, তেমনি খালেদা জিয়া অথবা অন্য কাউকে যা ইচ্ছা তাই অপমান-অপদস্থ করা ভালোবাসি না। কয়েক বছর আগে এক ভদ্রলোক এ সম্পর্কে আমাকে লিখেছেন। হঠাৎ সেদিন সে লেখাটা চোখে পড়ে। মনে হয় এখানে সেটা তুলে দেওয়া খুব একটা অপ্রাসঙ্গিক হবে না।
 


শ্রদ্ধেয় কাদের ভাই,

আমার ছালাম এবং শুভেচ্ছা গ্রহণ করবেন। আশা করি আপনি ভালো আছেন। গত সপ্তাহে আপনার বাসায় এসেছিলাম। অল্প সময়ের জন্য আপনার সঙ্গে কথা/আলাপ হয়েছে। আপনার সৌজন্য এবং আতিথেয়তার জন্য ধন্যবাদ।

আজকে সকালে বাংলাদেশ প্রতিদিনে বঙ্গবন্ধুকন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি মানুষকে তাচ্ছিল্য না করার আপনার আহ্বান অত্যন্ত সময়োপযোগী এবং যথার্থ বলে আমি মনে করি। শুধুমাত্র আপনজনকেই এ রকমের পরামর্শ দেওয়া যায়। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি আপনার শ্রদ্ধাবোধ থেকেই এ ধরনের পরামর্শ দেওয়ার তাগিদ আপনি অনুভব করেছেন। অন্যদিকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিও আপনার একটি আন্তরিক ও নীতিবোধের সম্পর্ক রয়েছে। নিঃসন্দেহে আপনি একজন বড় মাপের মানুষ। বঙ্গবীর শুধু একটি শব্দই নয়, কথা এবং কাজে এর ঘনিষ্ঠ সঙ্গতি রয়েছে। আর সে কারণেই বঙ্গবীর উপাধি আপনার জন্যই প্রযোজ্য।

আপনার সুস্বাস্থ্য এবং দীর্ঘায়ু কামনা করছি।

পুনঃ শুভেচ্ছান্তে,

আপনার বিশ্বস্ত

এম. এ. খান।

 

NEXT >