close


(বাংলাদেশ প্রতিদিন)

 প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৯ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ১৮ ডিসেম্বর, ২০১৭ ২২:৫১

 

 

চলো এবার ঢাকা চলো

 

- বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম

 

 

নিয়মিত কলাম লিখতে গেলে সবকিছুতেই সমসাময়িক অবস্থার প্রভাব পড়ে। আর বিশেষ করে যারা রাজনীতি করি, তাদের লেখায় সমসাময়িক রাজনীতির প্রভাব না পড়ে পারে না। স্বাধীনতার ৪৭ বছর পার করছি আমরা। কত উথাল-পাথাল, কত পরিবর্তন, কত নাটক-থিয়েটারে রাজাকার-শান্তি কমিটির চেয়ারম্যানকে দেখানো হচ্ছে মুক্তিযোদ্ধা, আবার মুক্তিযোদ্ধাকে বানানো হচ্ছে রাজাকার। রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় কত কিছু অদলবদল হচ্ছে। এই পর্বে স্বাধীনতার ৪৭ বছরে আমরা কী পেলাম কী পেলাম না, আরও কী পাব বা পাব না তা নিয়ে লেখার ইচ্ছা ছিল। গত লেখা ছিল ১২ ডিসেম্বর। লেখাটা শেষ করার পরই আমার স্ত্রী বলছিলেন, বাকিটুকু কই? ওটুকুও লিখতে হবে। সাদামাটা মানুষ, তাকে বোঝাই কী করে! সোজা-সরলভাবে বাকিটুকু লিখতে গেলেও ১০ পর্ব হবে। সাধারণ মানুষ সাধারণ পাঠক নিশ্চয়ই ১০ পর্ব কেন, ২০ পর্ব হলেও জানতে চায়, বুঝতে চায়, সেদিন রক্তের দাম কত ছিল তা বিচার করতে চায়। আবার বর্তমান ঘটনা হাত ফসকে যাক তাও তারা চায় না। তাই যাতে সাপও মরে লাঠিও না ভাঙে সেভাবে চেষ্টা করি কতটা কী করা যায়।

স্ত্রীসহ বেশ কয়েকজন পাঠকের অনুরোধে ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস পর্যন্ত গিয়ে পর্বটি শেষ করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু কোনোভাবেই একতালে যাওয়া যাবে না। মাঝেমধ্যেই ছন্দপতন হবে। সেদিন ১৫ ডিসেম্বর এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী ইন্তেকাল করেছেন। ভাগ্য মানুষকে কোথায় নিয়ে যায়। বঙ্গবন্ধু নিহত হওয়ার পর তিনি একসময় আগরতলা গিয়েছিলেন। প্রায় দুই বছর এদিক-ওদিক ঘোরাফেরা করে তেমন সুবিধা করতে না পেরে আমাদের কাছে গিয়েছিলেন। কয়েক হাজার বিপ্লবী যোদ্ধার মধ্যে তিনি, মৌলভী সৈয়দ, শিশির আরও কয়েকজন শরিক হয়েছিলেন। আগে থেকেই শাহ আজিজ, সুলতান, নাসিম, মাহাবুব ও কাপাসিয়ার খালেদ খুররমরা ছিল। ইন্দিরা গান্ধী সরকারের পতনের পর তাদের আর ভারতে থাকার সুযোগ হবে না, এটা জেনে আমার কাছে গিয়েছিলেন। তারা আসার ১০-১৫ দিন পর এক ডিভিশন সৈন্য নিয়ে ভারতীয় বাহিনী চারদিক থেকে আমাদের কর্ডন করে ফেলে। কোথাও বের হওয়ার পথ ছিল না। বাজারঘাট বন্ধ, চাল-ডাল-আটা-ময়দা সব সরবরাহ বন্ধ। বাধ্য হয়ে আমরা এক বেলার খাবার দুই বেলায় খেতে শুরু করি। এভাবে চলে ১৫ দিন। তারপর দুই বেলার খাবার চার বেলা খাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। ৬ হাজার মুক্তিযোদ্ধাকে ধরে বেঁধে জিয়া সরকারের হাতে তুলে দেওয়া হয়। আমিও সে সময় দেশে চলে আসতে চেয়েছিলাম। কিন্তু জিয়াউর রহমানের হাতে আমাকে তুলে দিতে তারা কিছুতেই রাজি হয়নি। শেষে আমার সঙ্গে মাত্র ১৬ জন রেখে বাকিদের ভারতীয় কর্তৃপক্ষ জিয়ার হাতে তুলে দিতে গেলে মহিউদ্দিন চৌধুরীকে নিয়ে যাওয়ার পথে তিনি ভীষণ কাঁদছিলেন। তাকে বাংলাদেশে পাঠালেই মেরে ফেলা হবে। আমি অনেক চেষ্টা করছিলাম তাকে যাতে রাখা যায়। এক পাঞ্জাবি ব্রিগেডিয়ার মহিউদ্দিনের কান্নাকাটি দেখে বলেছিলেন, স্যার, এখন পর্যন্ত কারও নাম-ঠিকানা পাঠানো হয়নি। পাঠানো হয়েছে সংখ্যা। আমরা ফিগার পুরো করতে পারলেই হলো। আপনি একটা লোক দিলেই হয়। কাকে বদলাব, রাজা দীপঙ্কর, সুলতান মোহাম্মদ মনসুর, দুলাল আহমেদ এ রকম ১৬ জনের নাম ঠিক করা ছিল। পরে ছোট ভাই বাবুল সিদ্দিকীর বিনিময়ে মহিউদ্দিন চৌধুুরীকে রাখা হয়। ঠিক এই সময় কার বদলে সখীপুরের আবদুল হালিমকে দেওয়া হয়েছিল মনে করতে পারছি না। কী দুর্বিষহ সময় গেছে যা আজ ভাবতে গেলেও বুকের ভিতর কেমন চিনচিন করে ওঠে। আপন ভাইয়ের বদলে যে মহিউদ্দিনকে রক্ষা করেছিলাম পরবর্তীতে তিনি রাজনীতিতে বিরাট ভূমিকা রেখেছেন। ১৬ বছর চট্টগ্রামের মেয়র ছিলেন। খুব একটা যোগাযোগ হয়নি। মানুষ মরণশীল। আমরা একসঙ্গে জাতির পিতার নামে রাজনীতি করেছি। পূর্ণ বয়সে তিনি চলে গেলেন। পরম করুণাময় আল্লাহর কাছে তার আত্মার শান্তি ও পরিবার-পরিজনের এই শোক সইবার শক্তি প্রার্থনা করছি আমিন।

পরের ধনে পোদ্দারি জানতাম, মাছের তেলে মাছ ভাজতেও দেখেছি। কিন্তু শত্রুর অস্ত্রে শত্রু নিধন একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের আগে কল্পনাও করিনি। আর যুদ্ধের সময় কোনো না কোনো কারণে সব সময়ই একটা শঙ্কা-উদ্বেগ লেগেই থাকত। কারণ যে কোনো দিক থেকে আক্রমণ হতে পারে। উন্মুক্ত মাঠে-ময়দানে শত্রুবিমান হামলা করতে পারে। শোলাকুড়ায় তার কোনো কিছুই ছিল না। বিমান আক্রমণের ভয় নেই, অন্যদিকে সম্মুখযুদ্ধে শত্রুর তেমন বুক চিতিয়ে দাঁড়ানোর মনোবল নেই। সবকিছু হারিয়ে তারা ম্রিয়মাণ-হতাশ-পলায়নপর। আমাদের দিক থেকে যখন ইছাপুরের ওপর অবিরাম গুলি চলছিল, তখন কতক্ষণ তারা সেখানে ছিল বলতে পারব না, মিনিট দশেকের গোলাগুলিতে শত্রুপক্ষ স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল। পুরো যুদ্ধের সময় কাদেরিয়া বাহিনী কখনো বেহিসাবি গুলি চালায়নি। সব সময় তাদের মাথায় থাকত এক গুলির বদলে পাঁচ গুলি সংগ্রহ করতে হবে। এই প্রথম একেবারে বেপরোয়া। কিছুক্ষণ পর ২০০ চৌকস যোদ্ধাকে হালকা অস্ত্রে রাস্তার দুই পাশ দিয়ে ইছাপুরের দিকে এগিয়ে দেওয়া হলো। তারা সেখানে গিয়ে সংকেত দিল কেউ নেই। আমরা এগিয়ে গেলাম। ইছাপুর পার হয়ে কবরস্থানের পাশে অবস্থান নিলাম। সকাল সাড়ে ৮-৯টা বাজে। পেটে কিছু পড়েনি। সবাইকে খাওয়ার ব্যবস্থা করতে বললাম। সাধারণত আমরা যেদিকেই গেছি খাবার পেতে কোনো অসুবিধা হয়নি। কিন্তু একটু আগে সেখানে হানাদার থাকায় এবং উভয় দিকে গোলাগুলি হওয়ায় গ্রামের লোকজন এদিক-ওদিক সরে গিয়েছিল। তবে আশ্চর্যের ব্যাপার মিনিট পনের পর থেকেই মানুষ গ্রামে ফিরতে শুরু করল। দূরের গ্রামের লোকেরা খাবার নিয়ে এলো। কারও হাতে কলা, কারও হাতে সিদ্ধ আলু, কারও হাতে পিঠা। এখনকার মতো তখন গ্রামের মানুষের খাবার ছিল না। গরিব মানুষ যে ভাত খেত এখন সে চাল কেউ খাবে না। আমাদের সঙ্গে ছত্রীবাহিনীর দলছুট তিনজন ছিল। তাদের একজন ক্যাপ্টেন। তাদের খাওয়ায় প্রথম দিকে সামান্য কষ্ট হয়েছিল। কিন্তু ইছাপুর খুব বর্ধিষ্ণু গ্রাম। তাদের চাল-চলন, খাওয়া-দাওয়া গ্রামের অনেক ধনবানের চেয়ে অনেক ভালো। একটু পরই রুটি-মাংস আরও কীসব এসে গেল। সাড়ে ৯টার দিকে ছত্রীসেনার আরেকটা কোম্পানি স্বেচ্ছাসেবকরা পথ দেখিয়ে নিয়ে এলো। মূল বাহিনী কোথায় তাদের কমান্ডার কোথায় এসব খোঁজ করে তখনই চলে যেতে চাইল। আমি তাদের বিরত করলাম। খাওয়ার ব্যবস্থা করা হলো, আপত্তি করলেও সবাই খাবার খেল। বেলা ১১টার দিকে এলেঙ্গা ফুলতলার দিকে এগোতে শুরু করলাম। অর্ধেক যেতেই প্রবল বাধা এলো হানাদারদের দিক থেকে। পিছিয়ে এসে আবার আরআর, ৩ ইঞ্চি মর্টার, মেশিনগান চালানো শুরু হলো। মনে হয় হানাদাররা আমাদের দিক থেকে অমন প্রবল আক্রমণের চিন্তা করেনি। ক্যাপ্টেন পিটারকে অনুরোধ করলাম, এলেঙ্গা থেকে ফুলতলা ও টাঙ্গাইল জেলা সদরে বিমান সাহায্য পাঠাতে। এক ঘণ্টার মধ্যে সাহায্য এলো। তারা নিখুঁত নিশানায় রকেট শেলিং ও মেশিনগানে স্ট্যাপিং করে এলাকাটা কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলীতে পরিণত করে দিয়ে গেল। ফুলতলায় হানাদাররা আমাদের চাপ সহ্য করতে পারলেও ভারতীয় মিগ-২১-এর চাপ সহ্য করতে পারছিল না। তারা গাড়ি-ঘোড়া ফেলে পশ্চিমে হাঁটা পথ ধরেছিল। আমরা কয়েক শ মুক্তিযোদ্ধা এবং পেছনে এক কোম্পানি ছত্রীসেনা নিয়ে দ্রুত ফুলতলার দিকে ছুটলাম। ফুলতলায় পৌঁছে দেখি এক-দেড় শ আহত-নিহত রাস্তার দুই পাশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে আছে। ২৫-৩০টি গাড়ি বিধ্বস্ত হয়ে গেছে, ১০-১৫টি গাড়িতে তখনো আগুন জ্বলছে। কারও এক হাত আছে আরেক হাত নেই, কারও পায়ের হাঁটু পর্যন্ত উড়ে গেছে, কারও মাথা নেই, পুরো শরীর ছিন্নভিন্ন। হাত-পা কাটা হানাদারদের মনে হলো এ যেন করাত দিয়ে কাটা হয়েছে। ফুলতলার লোকদের দু-চার জনকে যখন বললাম, এদের নিয়ে কোথাও ক্ষতস্থান বেঁধে দেওয়ার ব্যবস্থা করুন। প্রথম প্রথম কেউ আগ্রহ দেখাল না। পরে আচ্ছা এক ধমক দিলে ১০-১২ জন লোক ছুটে এসে আহতদের কুড়াতে শুরু করল। সেবা-শুশ্রূষা করার জন্য আমাদের যেসব লোক ছিল তাদের লাগিয়ে দেওয়া হলো। আনন্দের কথা ছত্রীসেনাদের মধ্যেও চারজনের একটি টিম ছিল। তাদেরও সেখানে নিয়োজিত করা হলো। একটা প্লাটুন সেখানে পাহারায় রেখে আমরা দ্রুত ছুটলাম এলেঙ্গার দিকে। না, এলেঙ্গায় কোনো শত্রু নেই, সম্পূর্ণ ফাঁকা। এলাম পুংলি ব্রিজের ওপর। সেখানে আচমকা হানাদারদের মাথার ওপর ছত্রীসেনা পড়েছিল। তাতে এক ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছিল। পালিয়ে যাওয়া পাকিস্তানিরা মনে করে তাদের পালানোর পথ বন্ধ করার জন্য ছত্রীবাহিনী নেমেছে। তাই তারা তেমন গোলাগুলি না করে মূল রাস্তা ছেড়ে পশ্চিমে গ্রামের দিকে পালাতে থাকে। এতে হানাদারদের বিপুল ক্ষতি হয়। ছত্রীবাহিনীর ছয়জন নিহত ও ১৪-১৫ জন আহত হয়। আমরা ফুলতলা থেকে ১০-১৫টি গাড়ি নিয়েছিলাম। কোথায় চালক কোথায় গানার কোনো কিছুর অভাব ছিল না। মনে হচ্ছিল মুক্তিযোদ্ধারা যেন সব পারে। বেশি সময় যুদ্ধ হলে তারা আকাশে বিমানও চালাতে পারত। নিরন্তর এলোমেলো যুদ্ধ হওয়ায় খাওয়া-দাওয়ায় ভালো ব্যবস্থা ছিল না। ছত্রীসেনা কমান্ডার ও ব্রিগেড কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার ক্লের তখনই টাঙ্গাইল পর্যন্ত এগোতে চাচ্ছিলেন। আমি বারণ করেছিলাম। বলেছিলাম, অনেক পথ যেতে হবে। যতটা এসেছেন টাঙ্গাইল থেকে ঢাকা তার চেয়ে অনেক দূরে। তাই শক্তি সংহত রাখাই ভালো। তিনি আমার কথা রেখেছিলেন। সন্ধ্যার কিছু আগে আগে কাদেরিয়া বাহিনী জেলা সদরের দিক থেকে টাঙ্গাইলে প্রবেশ করে, অন্যদিকে ফজলুর রহমানের নেতৃত্বে কাদেরিয়া বাহিনীর এক বিশাল দল ৩টা-সাড়ে ৩টার দিকে টাঙ্গাইল পুরনো শহরে প্রবেশ করে ঢাকা-টাঙ্গাইলের রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছিল। যে কারণে জেলা সদরে প্রায় ৩০০-৪০০ পাকিস্তানি সৈন্য আটকে যায়। অন্যদিকে নিয়ত আলী, মাইনুদ্দিন, ড. রাজ্জাক তাদের দল নিয়ে সকাল থেকেই টাঙ্গাইলের পুরনো শহর আক্রমণ করে চলেছিল। চারদিক থেকে সবার আক্রমণের ফসল হিসেবে দুপুরের মধ্যে পুরনো শহর হানাদারমুক্ত হয়ে গিয়েছিল। কয়েকটি মর্টার, রকেট লঞ্চার, ব্লান্ডারসাইট, আরআর নিয়ে আমরা যখন নতুন শহরের কাছাকাছি তখন পানির ট্যাংকের ওপর থেকে আমাদের ওপর হানাদারদের ওপর প্রচণ্ড গুলি আসে। মেজর হাবিব তার দুটি আরআর থেকে নিখুঁত নিশানায় গুলি ছুড়ে পানির ট্যাংকের ওপর বালির বস্তার আড়াল নিয়ে যারা মেশিনগান চালাচ্ছিল তাদের কাগজের পাতার মতো উড়িয়ে দেয়। আমরা জেলা সদরের মুখে এলে খবর পাই তখনো ৩০০-৪০০ হানাদার সেখানে আছে। তারা ভারতীয় বাহিনী অথবা কাদের সিদ্দিকীর কাছে আত্মসমর্পণ করবে। অন্য কারও কাছে নয়। কাদের সিদ্দিকী এসেছেন বললে তাদের এক ক্যাপ্টেন এসে আমার সঙ্গে কথাবার্তা বলে নিশ্চিত হয়ে সব অস্ত্র গোলাবারুদ ছেড়ে আত্মসমর্পণ করে। তাদের জেলা সদরের ১৫-২০টি ঘরে শক্তিশালী পাহারায় আটকে রাখা হলো। অন্যদিকে পাকিস্তানের সহযোগী দালাল, সরকারি কর্মচারী, ডিসি, এসপি, ম্যাজিস্ট্রেটদের ধরে এনে ব্রিগেডিয়ার ফজলুর রহমান তাদের পাছায় ২-৪টা লাথি মেরে ফেলে রাখে। তাদের মধ্যে অন্যতম এডিসি আশিকুর রহমান। সন্ধ্যার আগে আগে আমি টাঙ্গাইল আওয়ামী লীগ অফিসের বারান্দায় এসে দাঁড়াই। মুহূর্তে হাজারো মানুষে জায়গাটা ভরে ফেলে। অল্প আগেই ব্রিগেডিয়ার ফজলুর রহমান টাঙ্গাইলের বিশেষ বিশেষ দালালদের ধরে এনে হাত পেছনে বেঁধে পাছায় লাথি মেরে আওয়ামী লীগ অফিসের পেছনে বসিয়ে রাখছিলেন। আমি হাজির হলে তিনি তার কর্মকাণ্ডের রিপোর্ট করেন। তাকে বলি, এদের ভালো জায়গায় আটকে রাখুন। যা করার কাল করব। এর মধ্যে কোনোভাবেই যেন কোনো প্রাণনাশ না হয়। আর এখনই কারফিউ ঘোষণা করে দিন। রাত ৮টা থেকে সকাল ৫টা সব ঘরের দুয়ার বন্ধ। রাস্তায় কেউ নিহত হলে সেজন্য তাকেই দায়ী হতে হবে।

NEXT >