close


(বাংলাদেশ প্রতিদিন)

 প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২৭ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০ টা আপলোড : ২৬ মার্চ, ২০১৮ ২৩:৩৮

 

 

স্বাধীনতা দিবস আরও গৌরবময় উজ্জ্বল হোক

 

- বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম

 

 

গতকাল ছিল মহান স্বাধীনতা দিবস। কী করে যে দিন-মাস-বছর যায় ভাবাই যায় না। এ যেন বহতা নদীর মতো। কখনো কখনো মনে হয় এই তো সেদিন মুক্তিযুদ্ধে গেলাম। কত চড়াই-উতরাই কত দুঃখ-কষ্ট ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসের অনাবিল আনন্দে সব ধুয়ে-মুছে গেল। প্রতিটি জাতির জন্য স্বাধীনতা বড় বেশি আরাধ্য। পৃথিবীজোড়া কত জাতি, কিন্তু সবাই স্বাধীন নয়। স্বাধীনতা আত্মার এক অনাবিল মুক্তি। সব জাতি সব সময় স্বাধীন থাকে না। কোনো কোনো জাতি কখনো কখনো স্বাধীন হয় আবার আগ্রাসীদের অধীনে চলে যায়এটাই চক্রাকারে চলে এসেছে শত শত বছর। অনেকে স্বাধীনতা ধরে রাখতে পারে না। আমরাও অঙ্গ-বঙ্গ-কলিঙ্গের মানুষ কখনো-সখনো স্বাধীন হয়েছি, কোনো সময় নামে মাত্র আবার কোনো সময় প্রকৃতই স্বাধীন। কিন্তু পরাশক্তির হিংস্র থাবায় আমরা তা বেশি দিন ধরে রাখতে পারিনি, আবার পদানত হয়েছি। চেঙ্গিস খাঁ, হালাকু খাঁ, নাদির শাহ আমাদের পরাভূত করেছে। সুলতানি আমলে আমরা পরাভব মেনেছি। এসেছে পাঠান-মোগল-ইংরেজ-পাকিস্তান। অন্তরাত্মা থেকে পরাধীনতা না মানলেও আমরা পরাধীন থেকেছি বারবার। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে গৌরবময় স্বাধীনতাই আমাদের একমাত্র অহংকার করার মতো অর্জন। কত আশা ছিল, এত রক্তে অর্জিত দেশ দানবের নয়, হবে মানবের। কিন্তু আজ নিজেকে কিছুটা অসহায় মনে হয়। আমাদের কত কিছু আছে! রাস্তা-ঘাট, দালানকোঠা সুন্দর সুন্দর ঘর-বাড়ি, সাগরে-আকাশে জাহাজ কোনো কিছুর অভাব নেই। কিন্তু সাধারণ মানুষ দিশাহারা। ২২ পরিবারের বঞ্চনার হাত থেকে মুক্ত হতে গিয়ে আজ শত শত ২২ পরিবারের হাতে আমরা বন্দী। তখন তবু ২২ পরিবারের বিরুদ্ধে কথা বলা যেত, রুখে দাঁড়ানো যেত। নাম গোত্রহীন এখনকার শত শত ২২ পরিবার নিয়ে কথা বলাও যায় না। এখন বিত্তই তাদের করায়ত্ত নয়, রাজনীতি, প্রশাসন সবই তাদের দখলে। বঙ্গবন্ধুর হত্যার প্রতিবাদে দীর্ঘ নির্বাসন কাটিয়ে নব্বইয়ের ১৬ ডিসেম্বর যখন দেশে ফিরি তখন ২৬ মার্চ সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে সারা দেশের মানুষ ভেঙে পড়ত। কিন্তু কেন যেন এখন তেমন হয় না। এবার বড় বেশি কম লোকজন হয়েছে। মানুষের মধ্যে সেই উন্মাদনা, সেই আকুতি নেই। বাংলাদেশের পতাকা হাতে ছোট ছোট ছেলেমেয়ে কাঁধে বাবা-মায়েরা এখন আর আগের মতো আসে না। কোথায় গেল স্বাধীনতার শহীদদের প্রতি সেই দুর্নিবার আকর্ষণ। মাঝে মাঝে যখন ভাবি মনটা কেন যেন ভারী হয়ে আসে।

 



আজকাল যারা বড় বড় টেবিল-চেয়ার জাঁকিয়ে বসেছেন বাংলাদেশ না হলে তারা সেসব চেয়ারে বসা তো দূরের কথা, দুচোখে দেখতেও পেতেন না। আজ যারা সচিব তারা অনেকেই সচিবের ঘরের বাইরে টুলে বসতেন। এসপি, ডিসি সবার একই রকম হতো। মানুষ কি এ জন্য রক্ত দিয়েছে, যুদ্ধ করেছে, দেশ এমন চলার জন্য কি তারা শহীদ হয়েছে? শহীদের কাছে আমাদের জবাব কী? চারদিকে কোনো আলো নেই। কেমন যেন ঘুটঘুটে অন্ধকার।



 

NEXT >