close

  • Home »
  • Party Constitution

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

 

 

   নতুন চিন্তা                                              নতুন শক্তি                                              নতুন রাজনীতি

 

ঘোষণাপত্র ও গঠনতন্ত্র

 

 

 

কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ

শোষণ, বঞ্চনা ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে শোষিতের পক্ষে একটি নতুন রাজনৈতিক ধারা সৃষ্টির লক্ষ্যে ২৪ ডিসেম্বর ১৯৯৯ আহুত কনভেনশনে গৃহীত কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ এর ঘোষণাপত্র - এই উপমহাদেশে বিংশ শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ , নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মহাসংগ্রামের ফসল সম্পদ, প্রাচুর্য আর প্রকৃতির অপরুপ মায়াময় লীলাভূমি আমাদের প্রিয় জন্ম ভূমি বাংলাদেশের স্বাধীনতা। প্রাণের চেয়ে প্রিয় দেশ দস্যু তস্করের লুন্ঠন আর দখলদারীত্বের শিকারে ক্ষত বিক্ষত হয়েছে বারং বার । প্রকৃতির খেয়ালীপনা আর তস্কর লুটেরাদের খাপখোলা তরবারির বিরুদ্ধে নিরন্তর লড়াই সংগ্রাম চালিয়ে গেছেন আমাদের পূর্বসুরীরা বারবার। মোঘল পাঠান আর সুলতানী আমল শেষে দুশ বছরের ইংরেজ শাসন অবসানে যখনই আমাদের চেতনায় স্বাধীন স্বত্ত্বার অনুভূতি ঝিলিক দিয়েছিল তখনই মাতৃভাষা ও সংস্কৃতির উপর পাকিস্তানী শাসকগোষ্ঠী আঘাত হানে। বাঙালী মানস সেই আঘাত তার আলাদা জাতীয় স্বত্ত্বা আর অস্তিত্বের অনুভূতি তীব্রভাবে অনুভব করলো প্রথমবার । নিজের সত্যিকার পরিচয়ের সন্ধানে সেই থেকে আমাদের পথচলা শুরূ হলো। জাতীয় ঐতিহাসিক প্রয়োজনে গণমানুষের আশা আকাঙ্খা ও স্বপ্নকে বুকে লালন করে ১৯৪৯ সালে বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা, আফ্রো এশিয়ার নিপীড়িত বঞ্চিত মানুষের নেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানি, সেই সময়ের তারুণ্যের প্রতীক জননেতা শামসুল হক ও পরবর্তীতে বাংলাদেশের জনক, স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে গঠিত হলো আওয়ামী মুসলীম লীগ। ৫৫ -র ভাষা আন্দোলন ছাত্র জনতার তাজা রক্তের বিনিময়ে স্বাধীকারের বীজ অঙ্কুরিত হলো। এরপর সীমাহীন অত্যাচার ,নির্যাতন জেল- জুলুম উপেক্ষা করে ৫৪, ৬২, ৬৯, এর রক্তক্ষয়ী গণ অভ্যূত্থানের পথ বেয়ে ৭০ এ ব্যলটের মাধ্যমে বাঙালী জাতির আন্তনিয়ন্ত্রণের পক্ষে নিরঙ্কুশ ম্যান্ডেট দিয়ে বঙ্গবন্ধু ে শখ মুজিবুর রহমানকে বাংলার একমাত্র জাতীয় নেতার পরিণত করলো। কিন্তু শাসকগোষ্ঠীর ষড়যন্ত্র থামলো না । নির্বাচনের রায় বানচালের করতে রাতের অন্ধকারে পাকিস্তানী সামরিক জান্তা নির্বিচারে গণহত্যা চালিয়ে স্বব্ধ করে দিতে চাইলো জনতার জাগরণকে । শুরু হলো এক অসম যুদ্ধ। লক্ষ প্রাণ বিসর্জনের মাধ্যমে নয়মাস সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের পর ৭১ এর ১৬ই ডিসেম্বর আমরা পেলাম সেই হাজার বছরের বাঙালীর শ্রেষ্ঠ অর্জন আরাধ্য স্বাধীনতা । ভাবলাম , এই বুিঝ খুলে গেল অপার সম্ভাবনার দুয়ার । আমরা স্বপ্ন দেখলাম , এইবার প্রতিষ্ঠিত হবে প্রকৃত গণতন্ত্র, শোষণহীন, দুর্নীতি ও বৈষম্যমুক্ত এক অসাম্প্রদায়িক সমাজ যা ছিল আমাদের মুক্তিযুদ্ধের প্রধান অঙ্গীকার । কিন্তু না, স্বাধীনতার পর পরই শুরূ হয়েছিল ষড়যন্ত্র। সদ্য স্বাধীন দেশে সরকারের বাইরে ও ভিতরে ষড়যন্ত্র চলেছিল সমানভাবে। একের পর এক মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যা, দেশের অর্থকরী স্থাপনাগুলি জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ছারখার করে দেয়া, সর্বোপরি ৭৫ এর ১৫ই আগস্ট মুক্তিযুদ্ধের মহানায়ক, বাংলাদেশের জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার মধ্যদিয়ে স্বধীনতাকে নস্যাতের চেষ্টা হলে আবার আমরা জনকের হত্যার বিরুদ্ধে রুখে দাড়াঁলাম । বগুড়ার যুবনেতা খালেকুজ্জামান খসরু, চট্টগ্রামের মৌলভী সৈয়দ আহমদ, ছাত্রনেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম সহ ৭২ জন যুবকের বুকের তপ্ত রক্তে দেশের নানা প্রান্তর লালে লাল হলো । বিশ্বজিৎ নন্দীর ফাঁসির আদেশ মাথায় নিয়ে ১৪ বছর কারা ভোগ এবং হুমায়ুন কবির, শাহাদৎ হোসেন সুজা, আবু বকর সিদ্দিক মুন্না, রফিকুল ইসলাম, গৌরাঙ্গ পাল, শফিকুল ইসলাম জিন্নাহ, মানু মজুমদার, সজল সরকার,বদিয়ার রহমান,আবু সাঈদ, আশরাফুল বারী খসরু, আহম্মদ আলী,আব্দুল হাকিম, নাসির উদ্দিন আহমেদ ও আনোয়ার হোসেন পাহাড়ী বীর প্রতীক এর যাবজ্জীবন কারাবরণ সহ অসংখ্য নেতাকর্মীর অভাবনীয় আতত্যাগের মধ্য দিয়ে ৯৬ এর ১২ ই জুন একটি অবাধ নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রনের ভার গ্রহণ করলো। কিন্তু জাতীয় আন্তর্জাতিক চক্রান্ত ও নেতৃত্বের ব্যর্থতার কারণে স্বাধীনতার এত বছর পরও আমাদের স্বপ্ন স্বপ্নই রয়ে গেল, বাস্তবায়িত হলো না কোন কিছুই । এখনো দেশের মানুষ পুরোপুরি অনুভব করতে পারেনা স্বাধীনতা আর পরাধীনতার প্রার্থক্য। লাগামহীন দুর্নীতি, রাষ্ট্রীয় জীবনে সীমাহীন সন্ত্রাস, অধিকাংশ রাজনৈতিক নেতা ও দলের চরম স্বার্থপরতা সর্বোপরি আমলাতান্ত্রিক ঔদ্ধত্বের কাছে গোটা জাতি আজ জিম্মি। মানুষের কর্মসংস্থান নেই,জীবনের নিরাপত্তা নেই, নেই বিচার ব্যবস্থার স্বাধীনতা। অথচ যা আমরা কামনা করেছি চিরকাল। এই নৈরাজ্যকর রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রনহীন চরম সন্ত্রাস,অবক্ষয় ও হতাশার হাত থেকে জাতিকে মুক্তির লক্ষে আর মাত্র কদিন বাদে একটি নতুন সহ্রাব্দে নতুন চিন্তা, নতুন শক্তি ও নতুন রাজনীতি নিয়ে আমরা দেশের মানুষের কাছে হাজির হতে চলেছি। নতুন শতাব্দী, নতুন চিন্তা, নতুন শক্তি আর নতুন রাজনীতির সন্ধানে যাদেরকে অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে আজকের এই ঐতিহাসিক অনুষ্ঠান, সারাদেশ থেকে ্গত সেই কর্মবীরদের এক প্রতিনিধিত্বমূলক সভায় গৃহীত সিন্ধান্ত অনুসারে আমার উপর অর্পিত দায়িত্ব হিসেবে আজ বাংলা ১০ই পৌষ, ১৪০৬, হিজরী ১৫ই রমজান, ১৪২০, ইংরেজী ২৪ শে ডিসেম্বর, ১৯৯৯ রোজ শুক্রবার ঢাকার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটের মুক্তাঙ্গনে আয়োজিত কনভেশনে মান্যবর কুটনীতিকবৃন্দ, দেশবরেণ্য ব্যক্তিবর্গ, সারাদেশের বহু গ্রাম গ্রামান্তর থেকে আসা অসংখ্য সাধারণ নাগরিকবৃন্দ, দেশের গৌরব জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধাবৃন্দ ও আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন আইনবিদ, বাংলাদেশের সংবিধানের অন্যতম প্রণেতা, এই অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি, দেশবাসীর বিশ্বাসের মূর্ত প্রতীক, পরম শ্রদ্ধেয় ডঃ কামাল হোসেন এর উপস্থিতিতে আমি কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তম, পিতা - মৌলভী মুহাম্মদ আব্দুল আলী সিদ্দিকী অত্যন্ত আনন্দ এবং গর্বের সাথে সশ্রদ্ধচিত্তে বেলা ১২.৪০ মিনিটে নতুন একটি রাজনৈতিক দলের শুভ জন্ম তথা আতপ্রকাশ করছি। আমি আরো গভীর আনন্দ ও গৌরবের সাথে ঘোষণা করছি, নতুন শতাব্দীর প্রয়োজন ও দাবী মেটাতে মুহুর্ত আগে ভুমিষ্ট বা আতপ্রকাশিত নতুন দলের নাম হচ্ছে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ। ২৪.১২.১৯৯৯ বেলা ১০.৪০ মিনিট বাংলাদেশের জয় হোক, জয় হোক বাঙালীর ।

Next >